Denpasar

দেনপাসার বালি প্রদেশের রাজধানী, দ্বীপের ব্যস্ত দক্ষিণের রিসোর্টগুলোর ঠিক উত্তরে বাজার, মন্দির আর সরকারি দপ্তরে ভরা এক কর্মব্যস্ত বালিনীয় শহর। এর নামটি বালিনীয় ভাষায় ‘উত্তর’ ও ‘বাজার’ শব্দ জুড়ে তৈরি, যা মনে করিয়ে দেয় বাজার-শহর হিসেবে এর সূচনার কথা, আর 1906 সালের ওলন্দাজ হস্তক্ষেপের আগ পর্যন্ত এটি ছিল বাদুং রাজ্যের রাজধানী।

শহরের কেন্দ্রে খুব কম পর্যটকই থাকেন, তবু অনেকে না জেনেই এর সীমানার ভেতরে রাত কাটান: পূর্ব উপকূলের শান্ত সৈকত-রিসোর্ট সানুর শহরটির দক্ষিণ দেনপাসার জেলায় অবস্থিত। দুটি মিলে দক্ষিণ বালির এক ভিন্ন রূপ তুলে ধরে, যেখানে আছে বালি জাদুঘর ও পুরা জগৎনাথ মন্দির, জমজমাট সকালের বাজার, সমুদ্রের ধারে লম্বা পথসহ প্রবালপ্রাচীরের আড়ালে থাকা সৈকত, আর নুসা দ্বীপগুলোতে যাওয়ার দ্রুতগতির নৌকা। সানুর ও তুলনামূলক নিরিবিলি রেনন জেলার বাড়ি, ভিলা ও অ্যাপার্টমেন্ট পরিবার, বয়স্ক ভ্রমণকারী এবং দীর্ঘ সময় থাকার পরিকল্পনা যাঁদের, তাঁদের জন্য উপযুক্ত।

দেনপাসার ও সানুরে কোথায় থাকবেন

বেশির ভাগ পর্যটকের জন্য স্বাভাবিক ঘাঁটি সানুর: পূর্ব উপকূলে লম্বা সৈকত, হাঁটা ও সাইকেল চালানোর জন্য সমুদ্রের ধারের পথ, আর তার পেছনে ভিলা, গেস্টহাউস ও অ্যাপার্টমেন্টে ভরা নিরিবিলি গলি। মাতাহারি তেরবিত সৈকতের আশপাশের উত্তর প্রান্ত নুসা দ্বীপগুলোর নৌকাঘাটের সবচেয়ে কাছে, আর মের্তাসারির দিকের দক্ষিণ প্রান্ত আরও শান্ত। পরিবার, দম্পতি এবং কয়েক দিন নয়, কয়েক সপ্তাহ থাকছেন এমন সবার জন্য সানুর উপযুক্ত।

সানুর ও শহরের কেন্দ্রের মাঝে রেনন সরকারি ভবন, চওড়া রাস্তা আর বাজরা সান্ধি স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে থাকা পার্কের এক পরিচ্ছন্ন জেলা, যেখানে স্থানীয় রেস্তোরাঁ আর দীর্ঘ সময় থাকার উপযোগী বাড়ি আছে। জালান গাজাহ মাদা ও পুপুতান চত্বর ঘিরে পুরোনো কেন্দ্র ব্যস্ত ও একেবারেই স্থানীয়, বাজার ও জাদুঘরের জন্য সুবিধাজনক। তিনটি জায়গা থেকেই কুতা ও সেমিনিয়াকের সৈকত এবং উবুদের পাহাড় গাড়িতে যাওয়ার দূরত্বে।

পুরোনো কেন্দ্র: জাদুঘর, মন্দির ও বাজার

পুরোনো দেনপাসারের সবুজ প্রাণকেন্দ্র পুপুতান চত্বরের নাম এসেছে 1906 সালের ঘটনা থেকে, যখন বাদুংয়ের রাজা ও তাঁর দরবার আত্মসমর্পণের বদলে ওলন্দাজ সেনাদের মুখোমুখি হতে বেরিয়ে আসেন; চত্বরের একটি ভাস্কর্য তাঁদের সম্মান জানায়। সে সময়ের প্রাসাদটি ধ্বংস হয়ে যায়, আর চত্বরের পূর্ব দিকে 1931 সালে প্রতিষ্ঠিত বালি জাদুঘর এখন সেই প্রাসাদের অনুপ্রেরণায় তৈরি আঙিনা ও মণ্ডপগুলোতে অবস্থিত, যার আলাদা আলাদা ভবনে আছে মুখোশ, বাদ্যযন্ত্র, বস্ত্র, ভাস্কর্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

জাদুঘরের পাশে 1953 সালে নির্মিত পুরা জগৎনাথকে শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু মন্দির বলে গণ্য করা হয়। অল্প হাঁটার দূরত্বে বাদুং বাজার আর নদীর ওপারের কুম্বাসারি বাজারে বিক্রি হয় নৈবেদ্যের ফুল, মসলা, ফল ও কাপড়, আর সকালই সেখানে যাওয়ার সবচেয়ে জমজমাট সময়। মন্দির দর্শনে সারং পরতে হয় ও কোমরে একটি কোমরবন্ধ বাঁধতে হয়।

সানুর: সৈকত, প্রবালপ্রাচীর ও প্রাচীন ইতিহাস

সানুরের সমুদ্রতীর উত্তরের মাতাহারি তেরবিত থেকে দক্ষিণের মের্তাসারি পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বিস্তৃত। সমুদ্রের মধ্যের একটি প্রবালপ্রাচীর ঢেউ ভেঙে দেয়, তাই ভেতরের পানি সাধারণত শান্ত, যা শিশু, প্যাডলবোর্ডিং ও আরামের সাঁতারের জন্য ভালো, যদিও ভাটার সময় লেগুনটি সাঁতারের জন্য বেশি অগভীর হয়ে যেতে পারে। দিগন্তে নুসা পেনিদাকে রেখে সমুদ্রের ওপর সূর্যোদয়ই সানুরের চিরচেনা মুহূর্ত।

দীর্ঘকাল ধরে সানুর বাইরের জগতের সঙ্গে মিলনের জায়গা। দক্ষিণ সানুরের বেলানজং মন্দিরে দাঁড়িয়ে আছে সংস্কৃত ও প্রাচীন বালিনীয় ভাষায় খোদাই করা একটি পাথরের স্তম্ভ, যার তারিখ 914 সাল; এটিই প্রথম জানা বালিনীয় শিলালিপি, যাতে একজন রাজা, শ্রী কেসারি ওয়ারমাদেওয়া, নিজের নাম লিপিবদ্ধ করেছিলেন। শত শত বছর পরে বেলজীয় চিত্রশিল্পী আদ্রিয়াঁ-জঁ ল্য মাইয়ের 1932 থেকে 1958 সাল পর্যন্ত এখানে বাস করেন, আর তাঁর সাবেক বাড়িতে তাঁর প্রায় 80টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়।

শিল্পকলা, উৎসব ও বালির জীবন

বালির সাংস্কৃতিক জীবনের অনেকটাই পরিচালিত হয় দেনপাসার থেকে। তামান ওয়েরধি বুদায়া আর্ট সেন্টার হলো বালি শিল্প উৎসবের প্রধান মঞ্চ; নৃত্য, সংগীত, হস্তশিল্প ও শোভাযাত্রার এই মাসব্যাপী উৎসব 1979 সাল থেকে প্রতিবছর হয়ে আসছে, আর সাধারণত শুরু হয় বাজরা সান্ধি স্মৃতিস্তম্ভে একটি কুচকাওয়াজ দিয়ে। রেননের এই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিতে একটি জাদুঘর আছে, যার বিষয় স্বাধীনতার লড়াইসহ বালির মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম।

শহর চলে বালির হিন্দু পঞ্জিকা মেনে। প্রতিদিন সকালে দরজার সামনে দেখা যায় ছোট ছোট নৈবেদ্য, মন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাজে গামেলান সংগীত আর বের হয় শোভাযাত্রা, আর গালুঙ্গান ও কুনিঙ্গানে পেনজোর নামের লম্বা বাঁশের খুঁটি রাস্তার ওপর ধনুকের মতো বেঁকে থাকে। নীরবতার দিন নিয়েপির আগের সন্ধ্যায় দেনপাসারের পাড়াগুলো বিশাল ওগোহ-ওগোহ মূর্তি নিয়ে রাস্তায় বের হয়, তারপর সানুরসহ পুরো দ্বীপ এক দিনের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে যায়।

দিনভর ভ্রমণ ও নুসা দ্বীপপুঞ্জ

সানুর থেকে দ্রুতগতির নৌকা যায় নুসা পেনিদা, নুসা লেমবোঙ্গান ও নুসা চেনিঙ্গানে, যেগুলোর খাড়া পাহাড়, স্বচ্ছ পানি আর মান্টা রে দেখার জায়গা দিনভর ভ্রমণ বা অল্প কয়েক দিন থাকার জনপ্রিয় গন্তব্য; সমুদ্রের অবস্থা বদলায়, তাই রওনা দেওয়ার আগে খোঁজ নিন এবং লাইফ জ্যাকেট রাখে এমন অপারেটর বেছে নিন। সানুরের দক্ষিণের ছোট দ্বীপ সেরাঙ্গান, যা এখন সড়কপথে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, সেখানে আছে একটি সার্ফিং সৈকত ও একটি মাছ ধরার বন্দর।

ভেতরের দিকে উবুদ এবং গিয়ানিয়ারের ধানের সোপান ও মন্দিরগুলো উত্তরে মোটামুটি এক ঘণ্টার গাড়িপথ, যানজটের ওপর নির্ভর করে, আর সমুদ্র-মন্দির তানাহ লট পশ্চিমে। সানুর ও বিমানবন্দরের মাঝে বেনোয়া উপসাগরের ধারের ম্যানগ্রোভ বনে গাছের ভেতর দিয়ে কাঠের পাটাতনের হাঁটাপথ আছে। অনেক পর্যটক সানুরের ঘাঁটির সঙ্গে পাহাড়ে বা দ্বীপে কয়েক রাত জুড়ে দেন।

যাতায়াত ও চলাফেরা

শহরের দক্ষিণে স্থলভাগের সরু অংশে তুবানে অবস্থিত ই গুস্তি নগুরাহ রাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DPS) দেনপাসার ও রিসোর্টগুলো দুটিকেই সেবা দেয়। যানজটের ওপর নির্ভর করে সানুর ও রেনন সাধারণত সড়কপথে প্রায় আধা ঘণ্টার পথ, আর টার্মিনালে অপেক্ষা করে ট্যাক্সি, রাইড-হেইলিং গাড়ি ও আগে থেকে বুক করা চালক।

চলাফেরা হয় ট্যাক্সি, রাইড-হেইলিং অ্যাপ, ব্যক্তিগত চালক বা ভাড়া করা স্কুটারে। সানুর নিজে সমতল, সমুদ্রের ধার ধরে হেঁটে বা সাইকেলে সহজেই ঘোরা যায়, আর দেনপাসারের একমুখী রাস্তা ও প্রচণ্ড যানজটের কারণে দিনভর ভ্রমণের জন্য চালক নেওয়াই সহজ। স্কুটারচালকদের বৈধ লাইসেন্স ও হেলমেট লাগে। বালির প্রাদেশিক সরকার বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে একটি পর্যটক লেভি নেয়, যা পরিশোধ করা হয় সরকারের অফিশিয়াল লাভ বালি (Love Bali) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

আবহাওয়া ও কখন যাবেন

দেনপাসার ও সানুরের জলবায়ু বালির দক্ষিণের নিম্নভূমির মতোই উষ্ণ ও আর্দ্র, বছরের বেশির ভাগ সময় দিনের তাপমাত্রা প্রায় 30°C। মোটামুটি নভেম্বর থেকে মার্চের বর্ষাকালে প্রবল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বর্ষণ হয়, প্রায়ই বিকেলে, আর মোটামুটি এপ্রিল থেকে অক্টোবরের শুষ্ক মাসগুলো বেশি রোদেলা ও কম আর্দ্র; জুলাই ও আগস্ট পর্যটকদের সবচেয়ে ব্যস্ত সপ্তাহগুলো।

বছরের মাঝের বেশি বাতাসের মাসগুলো ঘুড়ির মৌসুমও, যখন সানুরের আশপাশের গ্রামগুলো খোলা মাঠ থেকে বিশাল ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি ওড়ায়। সানুর ও নুসা দ্বীপগুলোর মাঝের সমুদ্র যেকোনো সময় অশান্ত হতে পারে, তাই নৌকাভ্রমণের জন্য কিছুটা নমনীয়তা রাখুন। সাধারণত মার্চে পড়া নিয়েপি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করুন, যখন দোকান, রাস্তা ও বিমানবন্দর সব সারা দিন বন্ধ থাকে।

জেনে রাখা ভালো

সানুর কি দেনপাসারের অংশ?

হ্যাঁ। সানুর দেনপাসার শহরের ভেতরে, দক্ষিণ দেনপাসার জেলায়, দক্ষিণ বালির পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। নিজস্ব সমুদ্রতীর আর ভিলায় ভরা গলি নিয়ে এটিকে আলাদা একটি সৈকত-শহরের মতো মনে হয়, তবে কেন্দ্রীয় দেনপাসারের বাজার, জাদুঘর ও মন্দির গাড়িতে অল্প পথ।

দেনপাসারে থাকব নাকি সানুরে?

বেশির ভাগ পর্যটক সানুর বেছে নেন, এর শান্ত সৈকত, সমুদ্রের ধারের পথ আর নুসা দ্বীপগুলোর নৌকার জন্য। যাঁরা স্থানীয় জীবন, বাজার ও জাদুঘর চান, কিংবা রিসোর্ট এলাকা থেকে দূরে দীর্ঘ সময় থাকার জন্য নিরিবিলি ঘাঁটি চান, তাঁদের জন্য রেনন ও কেন্দ্রীয় দেনপাসার উপযুক্ত, আর সানুরের সৈকতও তখন কাছেই থাকে।

দেনপাসার কি দেখতে যাওয়ার মতো?

হ্যাঁ, একটি সকাল বা একটি দিনের জন্য। বালি জাদুঘর, পুরা জগৎনাথ মন্দির, পুপুতান চত্বর, বাজরা সান্ধি স্মৃতিস্তম্ভ আর নদীর ধারের বাজারগুলো বালির জীবনের এমন এক ছবি দেয়, যা রিসোর্টগুলো দেয় না। সকাল সকাল যান, যখন বাজার সবচেয়ে ব্যস্ত আর গরম কম।

বালি বিমানবন্দর থেকে সানুর কত দূরে?

ই গুস্তি নগুরাহ রাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DPS) দেনপাসারের দক্ষিণে, আর সানুরে গাড়িতে যেতে সাধারণত প্রায় আধা ঘণ্টা লাগে, যানজটের ওপর নির্ভর করে। ট্যাক্সি, রাইড-হেইলিং গাড়ি ও আগে থেকে বুক করা চালক এই পথে যায়, আর অনেক ভিলা ও গেস্টহাউস বিমানবন্দর থেকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে পারে।

সানুর থেকে নুসা পেনিদায় কীভাবে যাব?

সৈকতের উত্তর প্রান্তে সানুরের নৌকাঘাট থেকে দ্রুতগতির নৌকা ছেড়ে নুসা পেনিদা, নুসা লেমবোঙ্গান ও নুসা চেনিঙ্গানে যায়। প্রতিষ্ঠিত কোনো অপারেটরের কাছে বুক করুন, সমুদ্রের পূর্বাভাস দেখে নিন, আর একটি বাড়তি দিন হাতে রাখুন, কারণ উত্তাল সমুদ্রে পারাপার দেরি হতে বা বাতিল হতে পারে।

সানুর কি পরিবারের জন্য ভালো?

হ্যাঁ। প্রবালপ্রাচীরের আড়ালে থাকা পানি সাধারণত শান্ত, সমুদ্রের ধারের পথে স্ট্রলার ও সাইকেল নিয়ে চলা সহজ, আর বাগান বা পুলসহ ভিলা সহজলভ্য। ভাটার সময় লেগুন খুব অগভীর হয়ে যেতে পারে, তাই জোয়ার-ভাটা দেখে সাঁতারের পরিকল্পনা করুন, আর দুপুরের কড়া রোদ থেকে শিশুদের রক্ষা করুন।

দেনপাসার ও সানুর ভ্রমণের সেরা সময় কখন?

মোটামুটি এপ্রিল থেকে অক্টোবরের শুষ্ক মাসগুলোতে দিন বেশি রোদেলা ও আর্দ্রতা কম, আর জুলাই ও আগস্ট সবচেয়ে ব্যস্ত। মোটামুটি নভেম্বর থেকে মার্চের বর্ষাকালে বিকেলে ভারী বৃষ্টি হয় আর প্রকৃতি আরও সবুজ থাকে। নিয়েপির তারিখ দেখে নিন, যখন পুরো দ্বীপ এক দিনের জন্য থেমে যায়।

এআই-এর সহায়তায় গবেষণা ও লেখা হয়েছে, তারপর নিচের উৎসগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাই করা হয়েছে। সর্বশেষ যাচাই: ।

উৎস (7)

Denpasar-এর কাছাকাছি গাইড